সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমার শহর ঢাকা

 

ঢাকা, এই নামের মধ্যে আছে ইতিহাসের ধুলো, নদীর বিষণ্ন সুর, মানুষের ঘাম, ব্যস্ততার শ্বাস, আর অগণিত স্বপ্নের অস্ফুট জ্যোতি। এই শহরকে আমি কেবল একটি নগর হিসেবে দেখি না; দেখি এক জীবন্ত সত্তা হিসেবে, যার বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে স্মৃতি, সংগ্রাম, প্রেম, ক্লান্তি, এবং অবিরাম চলমান জীবনের গান। ঢাকা যেন এমন এক কবিতা, যা কখনো ছন্দ মেনে চলে না, তবু তার প্রত্যেকটি পঙ্‌ক্তিতে ধরা পড়ে যুগের স্পন্দন। এই শহর কখনো আমাকে ক্লান্ত করে, কখনো বিস্মিত করে, কখনো আহত করে, আবার কখনো অকারণেই গভীর মমতায় বুকে টেনে নেয়। আমার কাছে ঢাকা তাই শুধু বাসস্থানের নাম নয়; এটি অভ্যাস, অভিমান, ইতিহাস এবং ভালোবাসার এক জটিল অথচ অনির্বচনীয় সমষ্টি।

ঢাকার সকাল আমার কাছে এক অনন্ত জাগরণের মতো। ভোর নামার আগেই এই শহর নড়ে ওঠে। দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, রিকশার ঘণ্টি বাজে, রাস্তার মোড়ে চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে থাকে, আর ফুটপাতের নরম আলোয় শুরু হয় জীবিকার প্রথম যুদ্ধ। সূর্য ওঠার আগেই যেন শহর তার চোখ মেলে ফেলে, কোনো মৃদু স্বরে নয়, বরং এক অদম্য কোলাহলে। এই কোলাহলকে অনেকে অশান্তি বলে, কিন্তু আমি জানি, এর ভেতরে আছে বেঁচে থাকার এক অদম্য ঘোষণা। প্রত্যেকটি মানুষ যেন বলছে, ‘আমি আছি, আমি চলছি, আমি থামিনি।এই অস্থির সকালের মধ্যে ঢাকা তার প্রকৃত রূপ প্রকাশ করে, ক্লান্ত অথচ জাগ্রত, অগোছালো অথচ প্রাণময়।

ঢাকার রাস্তাগুলো আমার কাছে কেবল চলাচলের পথ নয়, তারা যেন সময়ের স্নায়ু। এই রাস্তায় মানুষ হাঁটে, ছুটে, বসে, অপেক্ষা করে, বিরক্ত হয়, স্বপ্ন দেখে। কখনো একটি রিকশা ধীরে ধীরে এগোয়, তার ঘণ্টির শব্দে মিশে থাকে কোনো অজানা বিষণ্নতা; কখনো একটি বাস হঠাৎ থেমে গিয়ে মানুষের ধৈর্যকে পরীক্ষা করে; কখনো ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশু তার চাহনির মধ্যে পুরো শহরের অভাবকে ধারণ করে থাকে। ঢাকা এমন এক শহর, যেখানে প্রতিটি পথই কোনো না কোনো গল্প বহন করে। এক পথ দিয়ে যায় ছাত্রের ভবিষ্যৎ, অন্য পথে শ্রমিকের ঘাম, আরেক পথে গৃহস্থের নির্লিপ্ত প্রাত্যহিকতা। এই শহরের মাটিতে পা ফেললেই যেন বোঝা যায়, এখানে জীবন শুধু বেঁচে থাকা নয়, জীবন মানে প্রতিনিয়ত টিকে থাকা। আর নিত্যদিনের সংগ্রাম ।

পুরোনো ঢাকা আমার কাছে এক অসামান্য স্মৃতিকোষ। সেখানে ঢুকলেই মনে হয়, আমি যেন আজকের সময় থেকে সরে গিয়ে এক অন্য কালে প্রবেশ করেছি। সরু গলি, পুরোনো দালান, ধুলোমাখা জানালা, ছাদের কোণে কাঁচা রোদ, সবকিছু মিলিয়ে সেখানে ইতিহাস নিঃশব্দে বেঁচে আছে। পুরোনো ঢাকার প্রতিটি ইট যেন কোনো কাহিনি জানে; প্রতিটি ভাঙা দেয়াল যেন শতাব্দীর ক্ষয় আর স্মৃতির ভার বয়ে চলে। সেখানে হাঁটলে আমি কেবল মানুষ দেখি না, দেখি সময়ের স্তর। মনে হয়, এই শহর বহুবার ভেঙেছে, বহুবার গড়েছে, তবু হারায়নি তার অন্তর্গত প্রাণ। পুরোনো ঢাকা আমার কাছে কেবল একটি স্থান নয়; এটি স্মৃতির এক নিবিড় আবাস, যেখানে অতীত আজও নিঃশব্দে শ্বাস নেয়।

আর নতুন ঢাকা, সে তো এক ভিন্ন বিস্ময়। কাঁচের দালান, উঁচু ভবন, উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন, ব্যস্ত সড়ক, আধুনিক ব্যবসায়িক চেহারা, সব মিলিয়ে সে এক অনবরত এগিয়ে চলা নগর-দেহ। মনে হয়, এই শহর ক্রমাগত নিজেকে নতুন করে নির্মাণ করছে। কিন্তু নির্মাণের এই অতি দ্রুততায় কোথাও কোথাও হারিয়ে যায় মানুষের সহজ উষ্ণতা, হারিয়ে যায় বারান্দার ছায়া, হারিয়ে যায় পাড়া-প্রতিবেশীর নির্ভরতা। তবু নতুন ঢাকার মধ্যেও আমি একধরনের সৌন্দর্য খুঁজে পাই, সে সৌন্দর্য যান্ত্রিক নয়, সে স্বপ্নের। কারণ, ঢাকা জানে কীভাবে পুরোনোকে বহন করতে হয়, আর জানে কীভাবে নতুনের দিকে হাত বাড়াতে হয়। এই দ্বৈততা-ই তাকে এত আকর্ষণীয় করে তোলে।

ঢাকার ইতিহাস এক গৌরবময় অথচ বেদনাময় অধ্যায়। এই শহর শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, শুধু জনবহুল নগরও নয়; এটি বাংলার ইতিহাসের এক স্পন্দিত হৃদয়। মোগল আমলে এর জৌলুস ছিল, নদীপথে বাণিজ্যের গতি ছিল, ছিল সুলতানি ও উপনিবেশিক ছাপ, ছিল রাজকীয়তার দ্যুতি। লালবাগ কেল্লা, হোসেনি দালান, আর নানা পুরোনো নিদর্শন আজও জানায়, এই শহর একসময় কেমন ছিল, আর কেমন করে সময় তাকে বদলে দিয়েছে। ঢাকার ইতিহাস পড়তে গেলে কেবল রাজা-নবাবের কাহিনি নয়, পড়তে হয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সহিষ্ণুতা। এ শহর বহু শাসন দেখেছে, বহু আন্দোলন দেখেছে, বহু আকাঙ্ক্ষার জন্ম ও মৃত্যু দেখেছে। তাই ঢাকা শুধু নগর নয়, এটি ইতিহাসের এক খোলা পাণ্ডুলিপি।

এই শহরকে আমি সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করি মানুষের মধ্যে। ঢাকার মানুষই ঢাকার প্রাণ। তারা কঠিন, কিন্তু সেই কঠিনতার মধ্যে কোমলতার অভাব নেই। তারা ব্যস্ত, কিন্তু ব্যস্ততার মধ্যে সহানুভূতির একফোঁটাও কখনো কখনো আলো হয়ে জ্বলে ওঠে। রিকশাচালকের ক্লান্ত মুখ, ফুটপাথের দোকানির দৃঢ়তা, অফিসফেরত মানুষের নির্লিপ্ত ক্লান্তি, শিক্ষার্থীর চোখের স্বপ্ন, গৃহিণীর নিঃশব্দ শ্রম, এসব মিলে তৈরি হয় ঢাকা নামের এক বৃহৎ মানবিক ক্যানভাস। এখানে মানুষ পরস্পরের খুব কাছে থেকেও অনেক সময় একে অন্যের থেকে দূরে; আবার এক কঠিন বিপদের মুহূর্তে সম্পূর্ণ অচেনা মানুষও হয়ে ওঠে আশ্রয়। এই দ্বৈত মানবিকতাই ঢাকাকে অনন্য করে। এখানে প্রেম আছে, আছে বিচ্ছেদ, আছে শত্রুতা, আছে সহমর্মিতা; আছে একাকীত্ব, আবার আছে অবলম্বন।

ঢাকার যানজটকে অনেকে অভিশাপ বলে। আমি অস্বীকার করি না, এটি এক দুর্ভোগ, এক দীর্ঘ ক্লান্তির নাম। কিন্তু এই যানজটের মধ্যেও আমি ঢাকার এক আশ্চর্য রূপ দেখি। স্থবির হয়ে থাকা বাস, উত্তপ্ত বিকেলের মধ্যে হর্নের অসহ্য শব্দ, জানালার বাইরে মানুষের নির্বাক মুখ, চায়ের দোকানের ধোঁয়া, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ভাসমান বিক্রেতা, এসব মিলে এক অদ্ভুত মানবনাট্য তৈরি হয়। এই দৃশ্য কারও কাছে বিরক্তিকর, কিন্তু আমার কাছে তা শহুরে জীবনের গূঢ় প্রতিচ্ছবি। কারণ, ঢাকা আমাকে শিখিয়েছে, জীবন সবসময় গতিময় হয় না; কখনো কখনো থেমে থাকাটাও জীবনেরই অংশ। এই থেমে থাকা সময়েই মানুষের ভিতরের ক্লান্তি, আকাঙ্ক্ষা, রাগ, মায়া এবং অপেক্ষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বর্ষাকালে ঢাকা যেন আরও বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে। আকাশ কালো মেঘে ভরে গেলে, রাস্তায় জলের চিকচিকে স্তর জমলে, আর দেয়ালের গায়ে ভেজা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ভেসে এলে শহরটি এক নতুন রূপ ধারণ করে। বৃষ্টিতে ঢাকার রঙ বদলে যায়। ধুলো ধুয়ে যায়, গাছপালা কেঁপে ওঠে, ছাতার নিচে মানুষ আরও ঘন হয়ে দাঁড়ায়, আর রিকশার ওপর বৃষ্টির টিপ টিপ শব্দ যেন এক নরম সঙ্গীতের জন্ম দেয়। এই সময়ে ঢাকা শুধু ব্যস্ত থাকে না, সে অনুভূত হয়। বৃষ্টিভেজা রাস্তা, নরম আলো, আর দূরের ট্রাফিকের ঝাপসা শব্দ মিলে শহরকে এক কাব্যিক বিষণ্নতায় ভরিয়ে তোলে। তখন মনে হয়, ঢাকা নিজেই যেন আকাশের কাছে কিছু বলছে, কিন্তু ভাষা তার রুক্ষ, শব্দময়, তবু আন্তরিক।

রাত্রির ঢাকা একেবারেই অন্য এক নগর। দিনের তীব্রতা ম্লান হলে শহরটি যেন আরও নিঃসঙ্গ, আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। উঁচু ভবনের জানালায় জ্বলে থাকা আলো, ফাঁকা রাস্তায় মাঝে মাঝে গাড়ির গতি, চায়ের দোকানের শেষ আড্ডা, হাসপাতালের করিডোরে জেগে থাকা রাত, সব মিলিয়ে রাতের ঢাকা এক গভীর জীবনের প্রতিচ্ছবি। রাতের শহরকে দেখলে বোঝা যায়, দিনের কোলাহল থেমে গেলেও শহরের হৃদস্পন্দন থামে না। কোথাও না কোথাও কেউ জেগে আছে, কেউ কাঁদছে, কেউ লিখছে, কেউ স্বপ্ন দেখছে। এই সব অদৃশ্য মানুষের নিশ্বাসেই ঢাকা বেঁচে থাকে।

ঢাকার নদীগুলোও আমার কাছে অতি আপন। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ,এই নামগুলো শুধু মানচিত্রের নয়, অনুভবের। একসময় এই নদীগুলোই শহরের শিরা-উপশিরা ছিল। আজ তাদের অনেকেই দূষিত, অনেকেই অবহেলিত, অনেকেই কষ্টে জর্জরিত। তবু নদীর স্মৃতি মুছে যায়নি। নদীর ধারে দাঁড়ালে আমার মনে হয়, শহর তার শিকড়কে যেন ভুলে যাচ্ছে। নদী আমাদের কেবল জল দেয়নি, দিয়েছে চলাচলের পথ, সংস্কৃতির বিস্তার, জীবনের ভার বহনের অবলম্বন। তাই নদীকে হারানো মানে কেবল জল হারানো নয়, ইতিহাসের এক অংশ হারানো। আমি চাই, ঢাকা আবার নদীমুখী হোক, প্রকৃতিমুখী হোক, নিজের স্বাভাবিক সত্তার দিকে ফিরে তাকাক।

ঢাকা শুধু রাজনীতি, বাণিজ্য, প্রশাসন বা জনঘনত্বের শহর নয়; এটি ভাষা আন্দোলনের শহর, মুক্তিযুদ্ধের শহর, প্রতিবাদের শহর, কবিতা ও গান-এর শহর। শহীদ মিনারের সাদা স্তম্ভে আমি শুধু পাথর দেখি না, দেখি মাতৃভাষার জন্য বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়া এক অনন্ত গৌরব। রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, এসব জায়গা আমার কাছে শুধু স্থান নয়, চেতনার উন্মেষস্থল। ঢাকা তার বুকে বহন করে বাংলা জাতিসত্তার গর্ব, বেদনা, সংগ্রাম এবং বিজয়ের স্মৃতি। এই শহরকে বুঝতে হলে তার রাজপথের কোলাহল যেমন শুনতে হয়, তেমনি শুনতে হয় তার নীরব শহীদদের পদধ্বনিও।

ঢাকা আমাকে বারবার শেখায়, মানুষই শহরের আসল নির্মাতা। ইট, বালি, কাঁচ, সিমেন্ট, সড়ক, ফ্লাইওভার, এসব শহরের বাহ্যিক রূপ; কিন্তু তার প্রকৃত প্রাণ হলো মানুষ। মানুষের ভালোবাসা, শ্রম, স্বপ্ন, সংযম, রাগ, এবং ফিরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই শহরকে জীবন্ত রাখে। তাই আমি যখন ঢাকা দেখি, তখন আমি কেবল তার বাহ্যিক বিশৃঙ্খলা দেখি না; দেখি তার অন্তর্গত সংগ্রাম। দেখি, কীভাবে এক নগর প্রতিদিন নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে। কীভাবে ক্লান্ত মুখেও মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে। কীভাবে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও মন খুঁজে নেয় এক টুকরো সৌন্দর্য।

আমার শহর ঢাকা, তুমি অসম্পূর্ণ, তবু অপূর্ব। তুমি অগোছালো, তবু আকর্ষণীয়। তুমি ক্লান্ত, তবু উদ্যমী। তুমি ধুলোময়, তবু দীপ্তিময়। তোমার রাস্তায় ধৈর্য ভাঙে, তবু তোমার বুকেই নতুন দিনের বীজ অঙ্কুরিত হয়। তোমার ভিড়ে হারিয়ে যায় পরিচয়ের রেখা, তবু তোমার মধ্যেই আমি আমার পরিচয় খুঁজে পাই। তুমি আমাকে অস্থির করো, আবার আশ্রয়ও দাও। তুমি আমার বিরক্তি, আমার বিস্ময়, আমার অভিমান, আমার ভালোবাসা। তোমাকে অস্বীকার করা যায় না, কারণ তুমি আমার জীবনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তুমি শুধু শহর নও, তুমি এক অনুভব, এক স্মৃতি, এক দীর্ঘশ্বাস, এক প্রতিজ্ঞা। আর আমি সেই শহরেরই এক ক্ষুদ্র যাত্রী, যে প্রতিদিন তোমার রাস্তায় হাঁটে এবং প্রতিবারই নতুন করে তোমাকে ভালোবেসে ফেলে। এবং সুন্দর একটি দিনের অপেক্ষায় থাকে।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...