তোমাকে ভালোবাসার পর আমি আর আগের মানুষটি নেই , আমার ভেতরের যে মানুষটি একদিন খুব হিসেব করে বেঁচে থাকত , সে এখন প্রতিদিন তোমার নামের কাছে নিজের সমস্ত যুক্তি রেখে আসে তোমাকে ভালোবাসার পর রাত আর শুধু রাত থাকে না , অন্ধকারের ভেতরেও আমি তোমার মুখের আলো খুঁজি , জানালার কাচে জমে থাকা শিশিরে তোমার আঙুলের স্পর্শ কল্পনা করি , আর দূরের কোনো অচেনা পাখি ডাকলে মনে হয় , তুমি বুঝি আমাকে ডাকছো অন্য কোনো শহর থেকে , অন্য কোনো জন্মের ভেতর থেকে তোমাকে ভালোবাসার আগে আমি জানতাম না একটি মানুষের অনুপস্থিতিও এত ভারী হতে পারে। তুমি পাশে না থাকলে ঘরের চেয়ারগুলোও যেন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে , বিছানার একপাশ অকারণে শীতল হয়ে যায় , চায়ের কাপের ধোঁয়া কেমন একা একা ওপরে ওঠে , আর আমার হাত অভ্যাসবশত তোমাকে খুঁজতে গিয়ে শূন্যতাকে ছুঁয়ে ফিরে আসে , আমি তখন বুঝি , ভালোবাসা আসলে কাছে থাকার নাম নয় , ভালোবাসা হলো কাউকে না পেয়েও প্রতিটি মুহূর্তে তাকে পেয়ে যাওয়ার এক অসম্ভব ব্যাধি , তুমি জানো না , কতবার তোমাকে না বলেও আমি তোমার সঙ্গে কথা বলেছি। ভোরের আগে যখন পৃথিবী সবচেয়ে নিঃশব্দ , আমি তোমার নাম ধরে...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।