তোমাকে যখন দেখি, মনে হয় পৃথিবীর সব ব্যাধি যেন হঠাৎ এই দেহে এসে জমেছে, আমার দেহে, তোমার স্পর্শের ক্ষুধায় কাঁপতে থাকে মাঘের হিমের মত জমে থাকা এই রক্তে, প্রজ্বলিত শরীরে, বেড়ে উঠা স্বপ্নে; যেখানে তোমার অনুপস্থিতি, প্রতিদিন নতুন ক্ষতের সৃষ্টি সেখানে তোমাকে ভালোবাসা মানে আগুনে হাত রাখা; তা আমি জানি জানি, পুড়ে যাব, তবু হাত সরাতে পারি না, কিসের টান, তাও জানি না; কারণ তুমি সেই দহন, যা ছাড়া আমার রাত অসম্পূর্ণ, তুমি সেই অমোঘ আকর্ষণ, যার দিকে টানতে টানতে আমি নিজের শরীরের সীমা ভুলে যাই তার নির্দিষ্ট কাঠামোতে, তোমার ঠোঁটের ছোঁয়া, কখনও মনে হয় ওখানে যুদ্ধ বাধাবো! আমি হেরে যেতে চাই, শুধু তোমার কাছে, তোমার শরীরে হেরে গিয়ে আবার নতুন ক’রে বাঁচবো তোমাতে ভর ক’রে, একটি ক্লান্ত বর্ষার পাতা যেমন নরম কাদার স্পর্শে নিশ্চুপ হ’য়ে যায় তোমার চোখে যে অন্ধকার, তা নরম নয়; অজানা গন্তব্য আমার তার মধ্যে আছে কামনা, প্রশ্ন, নীরব সহিংসতা, যুদ্ধ যেখানে আমি বন্দি হ’য়েও মুক্তির স্বাদ পাই, যেন তুমি আমাকে ছিন্নভিন্ন করলেও আমার ভিতরেই জন্ম নেয় তোমার দিকে ফেরার আরেক আকুলতা রাতগুলো তোমার নাম...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।