তোমাকে হারানোর পর আমি ধীরে ধীরে , প্রায় গোপনে , নিজের ভেতর এক অদ্ভুত শিল্পের জন্ম হতে দেখেছি , যেখানে দুঃখ কোনো সরল অনুভূতি নয় , বরং বহুস্তর বিশিষ্ট , সূক্ষ্মভাবে বিন্যস্ত এক স্থাপত্য , যার প্রতিটি দেয়ালে খোদাই করা আছে তোমার অনুপস্থিতির অনিবার্য ছায়া তুমি ছিলে , কেবল একজন মানুষ হিসেবে নয় , বরং আমার দিনগুলোর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত একটি নিরবচ্ছিন্ন অর্থের স্রোত হিসেবে , যা আমার প্রতিটি ক্ষুদ্র অনুভূতিকে একটি কেন্দ্রের দিকে টেনে রাখত ; আর এখন তুমি নেই , কিন্তু এই ‘ না থাকা ’ এমন এক তীব্র উপস্থিতি , যা সমস্ত উপস্থিতিকেই ছাপিয়ে গিয়ে নিজেকে একমাত্র সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করে আমি যখন শহরে হাঁটি , মানুষের অসংখ্য মুখের মধ্যে হঠাৎ কোনো অচেনা ভঙ্গি , কোনো অর্ধেক হাসি , কিংবা একটি অবহেলিত দৃষ্টির ভেতর তোমার অস্পষ্ট প্রতিরূপ দেখতে পাই , এবং সেই মুহূর্তে পুরো শহরটাই যেন এক বিভ্রম হয়ে ওঠে , যেখানে তুমি নেই , তবু তুমি ছড়িয়ে আছো সর্বত্র বিকেলের শেষ আলো যখন ধীরে ধীরে নেমে আসে বারান্দার নিঃশব্দ প্রান্তে , আমি অনুভব করি , এই আলো , এই বাতাস , এই স্তব্ধতা একসময় তোমার শরীরের খুব কাছে ছিল ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।