চেনে-চেনে হেঁটে এলাম সেই নদীর ধারে , যেখানে জল হেঁসে ওঠে পাথরের সঙ্গে , আমার অন্তরও হেঁসে উঠল , যখন বুঝতে পারলাম , আমি এক কোণায় ধরে রেখেছি নীরবতা পাতার ফড়িংয়ে শিশির বিন্দু দুলছে , ভেসে যাচ্ছে একাকিত্বের ছায়ায় আমি বলি , তুমি কি শুনেছো ? বাতাসে গা ঘেঁষে বলছে , হ্যাঁ , আমি আছি প্রকৃতি কখনো প্রশ্ন করে না , শুধু প্রতিফলন দেয় , আমার ভিতরকার বেড়ে উঠা রূপে, উৎসব হয়নি যেখানে , শুধু শান্তি এসেছে ধীরে ধীরে , যেমন একটি ফুল ধীরে ধীরে রাতের বুকে নিজেকে খুলে দেয় আমি বসে থাকি , নীরব -হয়ে , চিন্তায় ডুবে , স্মৃতিতে ভেসে তবু ভালো লাগছে , এই নিরবতা , এই ধরন , এই শ্বাস। প্রকৃতির সাধারণ বিষয়গুলো আজ বড় হ ’ য়ে উঠেছে , পাতার ছায়া , পাখির গান , হাওয়ার স্পর্শ তাই আমি বলব , আমার ভালো লাগা তোমার জন্য , না হয় সে আমার জন্য নয় , তবে যা আমাকে করে দিয়েছে নতুন করে চিন্তা করার এবং আমি উঠে পড়ব , নদীর মতো নিয়ে যাব আমার শক্তিহীন ভাবনা , নতুন রোদ্দুরে।
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।