সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

প্রকৃতি ও আত্ম-চিন্তা

  চেনে-চেনে হেঁটে এলাম সেই নদীর ধারে , যেখানে জল হেঁসে ওঠে পাথরের সঙ্গে , আমার অন্তরও হেঁসে উঠল , যখন বুঝতে পারলাম , আমি এক কোণায় ধরে রেখেছি নীরবতা পাতার ফড়িংয়ে শিশির বিন্দু দুলছে , ভেসে যাচ্ছে একাকিত্বের ছায়ায় আমি বলি , তুমি কি শুনেছো ? বাতাসে গা ঘেঁষে বলছে , হ্যাঁ , আমি আছি প্রকৃতি কখনো প্রশ্ন করে না , শুধু প্রতিফলন দেয় , আমার ভিতরকার বেড়ে উঠা রূপে, উৎসব হয়নি যেখানে , শুধু শান্তি এসেছে ধীরে ধীরে , যেমন একটি ফুল ধীরে ধীরে রাতের বুকে নিজেকে খুলে দেয় আমি বসে থাকি , নীরব -হয়ে , চিন্তায় ডুবে , স্মৃতিতে ভেসে তবু ভালো লাগছে , এই নিরবতা , এই ধরন , এই শ্বাস। প্রকৃতির সাধারণ বিষয়গুলো আজ বড় হ ’ য়ে উঠেছে , পাতার ছায়া , পাখির গান , হাওয়ার স্পর্শ তাই আমি বলব , আমার ভালো লাগা তোমার জন্য , না হয় সে আমার জন্য নয় , তবে যা আমাকে করে দিয়েছে নতুন করে চিন্তা করার এবং আমি উঠে পড়ব , নদীর মতো নিয়ে যাব আমার শক্তিহীন ভাবনা , নতুন রোদ্দুরে।

প্রেম ও প্রত্যাশা

  সোনালি বিকেলে তো মার কণ্ঠ শুনতে চেয়ে ছে আমার মন তোমার ছায়া ছিল না , তবু ও শব্দ এসেছিল আগুন জ্বালিয়েও হাতের তালুতে রাখা হলো একটি অসমাপ্ত সৌন্দর্য যেখানে লেখা ছিল , সব বলব , কখনো না বলিনি আজ সেই স্মৃতি মুছে গেছে বাতাসে , কিন্তু আমার ভালোবাসা আগুন হ ’ য়ে আছে ভিতরে তুমি কি জান, প্রত্যেক মুহূর্তে আমি তোমাকে ছেড়ে যাই নিতুন করে কিছু বলার জন্য , কিন্তু শুধুই শব্দ ঝ ’ রে যায় অনন্তের দিকে আমি অপেক্ষায় ছিলাম একটা হাসির জন্য , যা ফেরত দেবে হারিয়ে যাওয়া সময়ের রঙ প্রেম হয়েছিল চুপকথায় , তাই আজও চিৎকার করে না , শুধু স্মৃতিতে ঘুরে বেড়ায় , একটি চাঁদের আলোর মতো ম্লান , যা রাতের শেষ ফাঁকে একা হাসে তবে তুমি জানো কি , হাত না ধরলেও , আমার ভালোবাসা আছে প্রতিটি শ্বাসে , যেমন রাত যায় প্রতিবার ভোরের জন্য নির্বাসিত হ ’ য়ে তুমি এসো একদিন, আমি বলব , সব কিছু ঠিক আছে আগের মত, হাত বাড়িয়ে বলব , এখানেই থাকো , চুপি সারে একসাথে বসে থাকবো , বাতাসের গায়ে প্রজ্বলিত আলো জ্বেলে ভবিষ্যতের এক অচেনা আনন্দের স্বরে।  

শহর ও মানুষের প্রতিচ্ছবি

  শহরের ভিড়ে আমার চোখ গেঁথে রয় বিলবোর্ডে, যেখানে আর কেউ নেই , শুধু আন্দোলন এবং অপেক্ষা বাতাসে মেশেছে ট্রাফিক হর্ণ , রেল লাইনের ধ্বনিতে , আমার মন হয় ওদের সুরের অংশ , বা হয়তো ছায়া তারপর তুমি এসেছো হঠাৎ , হাতের আঙুলে শহরের মানচিত্র আঁকো , এখানে ছিলাম আমি , বললে , তাহলে আমি বলব , এখানে ছিলাম আমি ও আমার অপেক্ষা স্মৃতিতে ফুটছে পুরনো রাস্তার বাঁকে ধূসর একটি রোদ্দুর , পাশাপাশি একটি শিশুর হাসি , ভুলে যাওয়ার ডাকে আমরা হয়তো একসাথে ছিলাম না , কিন্তু পথ একসাথে ছিল , নিখুঁত না হয় , তবে বিশ্বাস ছিল তাতে আজ আমি শহরের একটি কোণায় দাঁড়িয়ে বলি , আমার ভালোবাসা চিৎকার করে না , শুধু ছায়ার মতো তোমার পেছনে হাঁটছে হাওয়ার বিকট সঙ্গীত , বাতি নিভে যাওয়া পাথর , সব মিলিয়ে দিয়ে গেছে একটি বার্তা মানুষ একা নয় , তবে মানুষের মাঝেও একা থাকা যায় তাহলে আমি বলব , চল তুমি আমা র সাথে গন্তব্যহীন পথে, আমরা একসাথে হাঁটবো আমার শহরের ব্যস্ত রাস্তায় , যেখানে প্রতিটি স্বপ্ন নিজের হাতে বড় হয়ে ধরা দেয়।

আমি, তুমি ও সে - কিশোর গল্প

নদীর পাড়ে ছোট্ট শহর কাশিয়ানীর শেষ মাথায়, যেখানে কাঁচা রাস্তা গিয়ে থেমেছে কাশফুলের ভেতর, সেখানে আমাদের স্কুলটা ছিল। স্কুলের নাম পুরোনো, কিন্তু গাছগুলো বড়, মাঠটা বিস্তৃত, আর দুপুরের রোদে বারান্দার ধুলো এমন ঝিলমিল করত, যেন কারও পুরোনো স্মৃতি এখনো সেখানে বেঁচে আছে। আমি তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। আমি রোহান। পড়াশোনায় খুব খারাপ ছিলাম না, কিন্তু খুব ভালোও না। মাঝামাঝি ধরনের ছেলেদের যেমন হয়, না শিক্ষকরা খুব আদর করে, না খুব বকাঝকা করে, আমিও তেমনই ছিলাম। আমার জীবনের সবচেয়ে কাছের দুইজন ছিল তুষার আর নিলয়। তুষার ছিল চুপচাপ, বইপাগল, আর নিলয় ছিল উল্টো, হাসিখুশি, দৌড়ঝাঁপে ভরা, আর সব কথায় এমন একটা উজ্জ্বলতা রাখত যে মন খারাপ থাকলেও তার পাশে গেলে খানিকটা হালকা লাগত। আমাদের তিনজনের বন্ধুত্বের একটা অদ্ভুত নিয়ম ছিল। তুষার বলত, ‘আমি ভাবি।’ নিলয় বলত, ‘আমি করি।’ আর আমি বলতাম, ‘আমি দেখে নেই।’ এই তিনজনের মধ্যে কে যে বেশি জরুরি, সেটা আমরা কেউ কখনো বলিনি। তবে সত্যি বলতে, আমরা তিনজনই ছিলাম একে অন্যের অসম্পূর্ণতা। সেই বছরের বর্ষা একটু অদ্ভুত ছিল। বৃষ্টি নামত হঠাৎ, আকাশ যেন হেডমাস্টারের মতো হুকুম দিত, এখনই ভিজে...

নদীর ওপারে যে আলো ছিল-ছোট গল্প

  বছরের শেষ বিকেলগুলো অদ্ভুত হয়। সূর্য তখন যেন পৃথিবীর কাছাকাছি নেমে আসে , আলো হ ’ য়ে ওঠে কোমল , আর মানুষের মন অকারণে পুরোনো দিনের দিকে হাঁটতে শুরু ক ’ রে। এমনই এক বিকেলে বৃদ্ধ আবদুল কাদের নদীর ঘাটে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর বয়স পঞ্চাশ কাছাকাছি। চুলের সাদা রং দেখে মনে হয় শীত যেন অনেক আগেই এসে তাঁর মাথায় স্থায়ী বাসা বেঁধেছে। শরীর এখনও শক্ত , কিন্তু চোখে একটি দীর্ঘ ক্লান্তি। যে ক্লান্তি পথ চলার নয় , অপেক্ষার। নদী র নাম মধুমতী। একসময় এই নদীর বুক চিরে নৌকা চলত , মাঝিদের ভাটিয়ালি গান ভেসে আসত দূর গ্রাম থেকে। এখন নদী অনেক শান্ত। আগের মতো ঢেউ নেই , কোলাহল নেই। শুধু জল আছে , আর আছে সময়ের মতো ধীরে ধীরে ব ’ য়ে চলা স্রোত। কাদের সাহেব প্রতিদিন বিকেলে এখানে আসেন। গ্রামের মানুষ বিষয়টি জানে। কেউ কেউ বলে , তিনি নদী দেখতে আসেন। কেউ বলে , তিনি মৃত স্ত্রীর স্মৃতি খুঁজতে আসেন। আবার অনেকে বিশ্বাস করে , তিনি এমন একজন মানুষের জন্য অপেক্ষা করেন , যে আর কখনো ফিরবে না। সত্যিটা কেউ জানত না। ঘাটের পাশে একটি পুরোনো বটগাছ। তার ছায়ায় বসে কাদের সাহেব একটি টিনের বাক্স খুললেন। বাক্সটি ছোট , কিন্...

শেষ ট্রেনের জানালা- ছোট গল্প

  শহরের শেষ ট্রেনটা রাত সাড়ে ন ’ টায় ছাড়ে। তখন প্ল্যাটফর্মে মানুষ কমে আসে , শব্দ কমে আসে , এমনকি লোহার ওপর লোহার ঘষার যে দীর্ঘশ্বাস , সেটাও যেন ধীরে ধীরে নিভে যায়। রেলস্টেশনের বুকের ভিতর জমে থাকা আলো তখন হলুদ , ক্লান্ত , আর সামান্য দুঃখী। ঠিক সেই সময়ে এক বৃদ্ধ এসে দাঁড়ান প্ল্যাটফর্মের এক কোণে। তার হাতে একটা বাদামি খাম , আর চোখে এমন এক দৃষ্টি , যেন তিনি কাউকে খুঁজছেনও না , আবার হারিয়েও যেতে চান না। বৃদ্ধটির নাম নুরুল হক। শহরের মানুষ তাকে চিনত না। কিন্তু শহরের পুরোনো গাছগুলো , ভেজা ইটের দেয়ালগুলো , আর স্টেশনের বিক্রেতারা তাকে অনেকদিন ধরে দেখে আসছিল। কেউ জানত , তিনি প্রতিদিন একবার করে আসেন। কেউ জানত , তিনি কারও জন্য অপেক্ষা করেন। আর কেউ কেউ ফিসফিসিয়ে বলত , ‘ এ লোকটা মনে হয় নিজের অতীতের সঙ্গে দেখা করতে আসে। ’ সেদিন ট্রেন আসতে দেরি করছিল। দূরে কালো আকাশের ভর করে একটি সাদা আলো এগিয়ে আসছিল। নুরুল হক প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে বসে খামটা খুললেন। ভিতরে ছিল দুটি জিনিস , একটি পুরোনো চিঠি , আর একটি ছোট্ট শুষ্ক ফুল , একদিন লাল ছিল , এখন ধূসর হ ’ য়ে গেছে। চিঠিটা পড়তে পড়তে তার ঠোঁট...

পথের বাঁকে

পথের বাঁকে বাঁকে থেমে থেমে দেখি , তোমার এবং আমি একসাথে ছিলাম কি না , সে প্রশ্ন নিয়ে। বাতাসে একটা সুগন্ধ ভেসে আসে , হয়তো শৈশবের খানায় ধরা এক চুম্বনের স্মৃতি। আমি চলেছি অদৃশ্য রেল লাইনের মতো , যেখানে শব্দ নেই , শুধু কম্পমান নিঃশব্দতা। তোর স্মৃতিতে রঙিন বালি ছড়িয়ে আছে , আমি সেই বালিতে দাঁড়িয়ে বলি , আমি এখানে রয়েছি , তোমার কি শুনেছো ? চাঁদের আলো ঝলসে ওঠে পত্রিকার মতো , ভেঙে পড়ছে ফ্ল্যাশব্যাকে। আজ আমি হেঁটেছি বৃক্ষরহিত রাস্তায় , যেখানে শুধু আমার ছায়া আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে। তোর অনুপস্থিতি এক ধরনের অবস্থা , যেখানে সময় থামে না , কিন্তু পিছিয়ে যায়। আমি রাখি সময়ের ঘড়ি বন্ধ করে , তোমার আগমনের জন্য অপেক্ষায় , যা যদি হয় এক হেসে ওঠা শিশির বিন্দুতে। ভালোবাসা ছিল চিরন্তন , কিন্তু মাঝপথে হারিয়ে গেছে একটু সাহস , তোর চোখের মধ্যে সেই আলো , যা আজ দেখি শুধু স্বপ্নের পেছনে। আমি লিখেছি এই লাইনগুলো , যেমন এক বৃষ্টির দোয়ালে লেখা অদৃশ্য বার্তা , যা পড়ে কেউ না … তবু অনুভব করে যায় হৃদয়। তোমার যদি ফিরে আসো , আমি রাখব একটু , এই বার একটু গাঢ়ভাবে বলব , তুমি ফিরে এসেছো , আর আমরা আবার হাসব , প্রথম র...