আমি যেদিন প্রথম তোমার দিকে তাকিয়েছিলাম , সেদিন পৃথিবীর সমস্ত পরিচিত দৃশ্য হঠাৎ এমনভাবে অপরিচিত হ ’ য়ে উঠেছিল যে বহু বছরের চেনা আকাশকেও আমার মনে হয়েছিল নতুন কোনো ভাষায় লেখা এক বিস্ময়কর পাণ্ডুলিপি , যার প্রতিটি অক্ষরের ভেতরে তোমার মুখের অদৃশ্য প্রতিধ্বনি নিঃশব্দে জেগে আছে ; সেদিন আমি বুঝেছিলাম , মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে , যখন হৃদয়ের সমস্ত পুরোনো মানচিত্র একসঙ্গে বিলুপ্ত হ ’ য়ে যায় , আর একটি মাত্র মানুষের উপস্থিতি সমস্ত দিকনির্দেশকে নতুন অর্থে সাজিয়ে দেয় , যেন দীর্ঘদিনের শুষ্ক মরুভূমির ওপর হঠাৎ অচেনা কোনো নদী তার প্রথম স্বচ্ছ জলরেখা টেনে দেয় , তুমি কখনও আমাকে ভালোবাসার সংজ্ঞা শেখাওনি , কখনও কোনো প্রতিশ্রুতির উজ্জ্বল শব্দও উচ্চারণ করোনি , অথচ তোমার নীরবতার গভীরে আমার এমন এক অদ্ভুত আকর্ষণ ছিল , যার কাছে আমার সমস্ত যুক্তি , তর্ক আর বিশ্লেষণ , এবং সমস্ত একাকিত্ব ধীরে ধীরে মাথা নত ক ’ রে দিয়েছিল আমি যতবার নিজেকে বলেছি , আজ আর তোমার কথা ভাবব না , আজ থেকে হৃদয়কে অন্য কোনো ব্যস্ততার হাতে সমর্পণ করব , ততবার দেখেছি , আমার সমস্ত সিদ্...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।