সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কয়েকটি স্মৃতি

 

                রাত্রির গাঢ় অন্ধকারে নিজেকে হারিয়ে ফেলি কয়েক মুহূর্তে;

                ধূসর মেঘ থেকে কখন যে ঝ’রে পড়লো বৃষ্টির ফোঁটাগুলো নিঃশব্দে

                                           ভাবনার জগত থেকে তাও জানি না-

                সমুদ্রের ঢেউগুলো ভেঙে পড়ছে লালমেঘের আড়ালে, দূষিত রক্তে মিশে আছে

                রাত্রির নিবিড়তা, তীব্র আর উজ্জ্বল হ’য়ে নক্ষত্রের আড়ালে;

                দিগন্ত বিস্তৃত সীমানায় গেঁথে রাখি অদ্ভুত স্মৃতিগুলো ভাবনার গভীরে

                               নীল আর সাদা মেঘে উ’ড়ে যায় আমার চেতনা আরক্ত শিশিরে;

                মানুষের সমস্ত সম্পর্ক নিরর্থক, শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না বাঙলার মাটিতে

                দাঁড়িয়ে থাকি মধুমতীর পাড়ে, রোদের ঝিলিক খেলা করে আমার মসৃণ শরীরে

                সুখ খুঁজি সামান্য কিছুতে, নিঃসঙ্গ মুহূর্তে, রক্তনালিতে মিশে থাকে শব্দহীন

                শীতল ঢেউ আশ্বিনের বাতাসে, মেঘমালা ব’য়ে চলে সোনা ছড়িয়ে কোমল নীলে,

                উজ্জ্বল সোনালী ডানায় উড়তে থাকে আমার হারানো স্মৃতিগুলো তীব্রবেগে;  

                            শোভাময় আমার সমস্ত কিছু, অপার্থিব স্বপ্নের নিসর্গে অমল বাতাসে-  

                       শেফালির সৌন্দর্য নির্মম ভাবে গেঁথে থাকে অপরূপ চোখে,

                লাবণ্য-উচ্ছ্বাসে নিমিষেই হারিয়ে যায় সুন্দরের সকল আশ্চার্য অর্থ স্মৃতির আড়ালে

                জ্যোতির্ময় রক্তাক্ত ক্ষতে খেলা করে চিরসুন্দরের বীভৎসতা মর্মে-মর্মে;   

                                         নিরন্তর ভাবনায় হারিয়ে যাই দিন শেষে পঙ্কের সরোবরে,

                         নীলিমার নক্ষত্রে সমস্ত অন্তরে ছায়া ফেলে আমার গাঢ় দুঃস্বপ্ন

                   মাধুর্যময় আমার সমস্ত রচিত সংগীত নিঃশব্দে ব’য়ে চলা শিশিরে,

                অতীন্দ্রিয় ভাবনায় স্মৃতিরা বেঁচে থাক সৌন্দর্যের সুস্নিগ্ধ আশ্চার্য জীবনে।  

 

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

আমাদের ব্যর্থতাগুলো

  বাংলাদেশের গল্প কেবল সাফল্যের গল্প নয়; এ গল্পের ভেতরে অসংখ্য অপূর্ণতার দীর্ঘ ছায়াও মিশে আছে। একটি দেশ যখন যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে নিজের পরিচয় নির্মাণ করে, তখন তার প্রতিটি অগ্রগতি যেমন গর্বের, তেমনি প্রতিটি ব্যর্থতাও আত্মসমালোচনার দাবি রাখে। আমরা স্বাধীনতার পর বহু পথ পেরিয়েছি   অর্থনীতি বেড়েছে, নগরায়ণ হয়েছে, শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, অবকাঠামো বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু উন্নয়নের দৃশ্যমান ভবনের আড়ালে এমন কিছু ভাঙাচোরা জায়গা রয়ে গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে হয়   আমরা কি সত্যিই এগিয়েছি, নাকি কেবল এগিয়ে যাওয়ার চেহারাটি নির্মাণ করেছি? আমাদের ব্যর্থতাগুলো তাই কেবল কোনো সরকারের, কোনো প্রতিষ্ঠানের কিংবা কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; এগুলো আমাদের সামষ্টিক চরিত্র, রাষ্ট্রচিন্তা, সামাজিক অভ্যাস এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের আয়না। সর্বোপরি এগুলো আমাদের নিজস্ব ব্যর্থতা। আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়তো এই যে, আমরা অনেক সময় সমস্যাকে সমাধান করার চেয়ে সমস্যার সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যাই। রাস্তায় যানজট, নদীতে দূষণ, ফুটপাতে দখল, ঘুষ, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, বিচার পেতে...