সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ফরাসি সাহিত্যের মহাযাত্রা: একটি অবিচ্ছিন্ন আলোকপাত

  ফরাসি সাহিত্য, কেবল একটি ভাষার প্রকাশ নয় বরং এটি বিশ্ব সভ্যতার চিন্তা ও দর্শনের এক জীবন্ত ইতিহাস। যা মধ্যযুগের বীরত্বগাথা থেকে শুরু ক’রে আজকের উত্তর-আধুনিক কাল পর্যন্ত তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। এবং ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত লাতিন ভাষার বিবর্তনের মাধ্যমে; যেখানে ওল্ড ফ্রেঞ্চ বা প্রাচীন ফরাসি ভাষায় লেখা প্রথম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হিসেবে আমরা পাই ‘স্ট্রাসবার্গ ওথস’, এবং পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীতে রচিত বীরত্বব্যঞ্জক কবিতা ‘লা শানসঁ দ্য রোলঁ’ যা শার্লেমেনের বীরত্বের কাহিনী বর্ণনা ক’রে, এবং এই সময়কালে বীরত্বের পাশাপাশি ‘কোর্টলি লাভ’ বা সভাসদীয় প্রেমের ধারণা নিয়ে রচিত হ’তে থাকে অসংখ্য রোম্যান্স যা মূলত নাইটদের বীরত্ব ও ত্যাগের গল্প শোনাত। এবং এরপর ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে জঁ দ্য মেন-এর ‘রোমান দ্য লা রোজ’ এর মতো রূপক ধর্মী সাহিত্য মধ্যযুগীয় ফরাসি সমাজ ও দর্শনের দর্পণ হ’য়ে ওঠে। তবে ফরাসি সাহিত্যের প্রকৃত আধুনিক ভিত্তি স্থাপিত হয় রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সময়কালে; যখন ষোড়শ শতাব্দীতে মানবতাবাদীদের আবির্ভাব ঘটে এবং ফ্রঁসোয়া রাবলে তার ‘গার্গান্তুয়া ও পান্তাগ্রুয়েল’ ...

শতাব্দীর শেষ স্টেশনে একলা যাত্রী

  এখানে সময় যেন এক স্থবির নাম, লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই রাতের শহর এখন এক মলাট-ছেঁড়া নিষিদ্ধ উপন্যাস তুমি নেই, অথচ তোমার গন্ধ লেগে আছে এই ঘরের ধুলোবালিতে, যেমন প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে লেগে থাকে এক অস্পষ্ট বিস্মৃতির দাগ আমার আঙুলের ডগায় এখন কেবল শব্দের তৃষ্ণা, আর জানালার ওপাশে এক দিগন্তবিস্তৃত নিস্তব্ধতা, গভীর আর মায়াবী যেখানে নক্ষত্রেরা কথা বলে না, কেবল জ্ব’লে ওঠে এক মৃত সভ্যতার মতো আমরা কি চেয়েছিলাম এই জ্যামিতিক নিঃসঙ্গতা? রাতের তিনটেয় যখন ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা আমার টেবিলে হুমড়ি খেয়ে প’ড়ে, তখন মনে হয় ভালোবাসা আসলে এক আধুনিক অসুখ; যা সবার বুকে দেখা দেয় যার কোনো নিরাময় নেই, আছে শুধু পঙ্‌ক্তিমালায় সাজানো দীর্ঘশ্বাস, আমি আজন্ম এক যাযাবর, এই ইটের পাজরে পথ খুঁজে মরি সারাক্ষণ অথচ গন্তব্য বলতে তো ছিল কেবল তোমার ওই দু’চোখের অতল আভাস এখন সেই চোখ দুটোই যেন এক ধূসর কুয়াশার প্রসারিত দিগন্ত যেখানে কোনো জাহাজ ভেড়ে না, কোনো সংকেত বাজে না আর মানুষ আসলে একা, তার চেয়েও বেশি একা তার নিজস্ব কবিতা আমি শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে এক মায়াবী প্রাসাদ বানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দেয়ালগুলো সব নোনা ধরা, অ...

শহুরে এক নির্জনতা

  সেই এক বিকেলের কথা, যখন ছাদগুলো ধূসর হ’য়ে আসছিল, বাতাসে ভেসে আসছিল কোনো এক পুরোনো কফিশপের ধোঁয়া আর ক্লান্ত গান আমি জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়েছিলাম, অনেকটা বন্দি কোনো স্মৃতির মতো রাস্তার আলোগুলো একে একে জ্ব’লে উঠছিল যেন কারোর চোখের ম্লান ইশারা, অথচ তুমি তখন অনেক দূরে, হয়তো অন্য কোনো গোলার্ধের ব্যস্ততায় বিলীন আমার এই নিভৃত ঘরে এখন বইয়ের তাকেরা শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, কলমটা পড়ে থাকে নিষ্ক্রিয়, যেন এক বিস্মৃত প্রেমপত্রের শেষ যতিচিহ্ন বসাবে শহরের এই জ্যামিতিক গলিপথগুলো আমায় কোথাও নিয়ে যায় না আর, সবই তো বৃত্তাকার একই বাসের আওয়াজ, একই ক্লান্ত ফেরিওয়ালার সুর তবুও মনে হয়, কোনো এক গলি দিয়ে হঠাৎ বেরুলেই তোমার সাথে দেখা হবে, যেমনটা হতো সেই কুয়াশাঘেরা ধানমণ্ডির লেকের সন্ধেগুলোতে আসলে প্রেম তো এক নাগরিক নির্জনতা, যার পিঠে হাত রাখা যায় না সে কেবল শব্দের শরীরে জেগে থাকে, যেমন জেগে থাকে ‘কবিতা’র পাতায় আমিও তাই শব্দের জাল বুনি, একলা ঘরের নিস্তব্ধতায় সুর বসাই; তোমার অভাবটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় সৃষ্টি, সবচেয়ে মৌলিক কবিতা যতদিন এই শহর আছে, আর আছে আমার এই বিষণ্ণ অক্ষরজ্ঞান ততদিন তুমি ফির...

সৌন্দর্য

  শীতল হাওয়ার বাতাসে ভেসে যায় আমাদের নরম শরীর, আমি ছুঁই সেই বাতাস তবু তোমার উপস্থিতি আছে আমার চোখের সেই আড়ালে রাতের আকাশে মেঘেরা ঘুরে বেড়ায় , ঠিক যেন স্মৃতিগুলোর আনন্দ-উদ্বেগ , সবুজ গাছের গায়ে জমে থাকে শিশির বিন্দুতে গাঢ় দুঃখ   আমি দেখি তোমার হাসি , এক ফালি চাঁদের আলোর মতো ম্লান ক’রে, শহরের সারি সারি বাতিগুলো আলো জ্বেলে যেমন অপেক্ষা ক’রে তোমার আমি অপেক্ষায় থাকি, তোমার ফিরে আসার খবরে পায়ের ছাপ দেখে, কিন্তু সময় থামে না , আমাদের গভীর সম্পর্ক আমাদের মত বেঁচে থাকে হাতে সময়ের ঘড়ি থাকলেও সে নিজেই বেদনাদায়ক ভাবে এগিয়ে যায় আজ আমি বলি, তোমার জন্য লিখেছি অমর কথাগুলো , খোঁদাই করা কাঠে যেমন ছোট্ট নদী লিখে দেয় একাকিত্বের গহ্বরে নিজের আপন ছায়া তোমার যদি জানতে ইচ্ছে ক’রে, আমি বলি, আমি এখানে বসে আছি,   বাতাসের ছোঁয়ায় , পাতার ফড়িং, আলো ও ছায়ার মাঝেই বেঁচে থাকা তুমি যদি না শুনে থেকো , তখনও আমি বলব, আমার গভীর দুখগুলো আমার ভালোবাসা ছিল চুপচাপ , তবে ত্রুটি নয় , নিবিড় আর গাঢ় প্রতি নিশ্বাসে , প্রতি ছন্দে , আরো গাঢ় হ’য়ে উঠছে ভালবাসা আমরা হয়তো আলাদা ছিলাম , কিন্তু পথের শেষে মিল...

শিশিরের ছোঁয়া

  শিশির জমছে ঘাসে , প্রতিটি বিন্দু তোমার হাসির মতো ঝলমলে , আমি বসে আছি   চুপচাপ , ভেতরভাগে এক উন্মুক্ত আকাঙ্ক্ষায় তুমি কি দেখেছো কতটা সহজ হ’তে পারে আমাদের ভালোবাসা ? যখন হেঁটে যাই প্রকৃতির রঙে, তোমার আমার কথা নিয়ে বাতাসের সুরে মিশে থাকে একটি গোপন আর দীর্ঘ প্রার্থনা তুমি ফিরে এসো আমার বু’কে,   ব’লে মাত্র একটু স্পর্শের জন্য গাছেরা নীরবে সবই জানে, আমরা একবার মিলেছিলাম এখানে , আলোর ভেলায় ভেসে নিয়ে গিয়েছিলাম গভীর স্বপ্নগুলো আজ আমি বলি,   ফিরে আসো , ফিরে আসো, আমার বু’কে আমার ভালোবাসা হ’য়ে উঠুক লতাপাতায় ছড়িয়ে পড়া নিবিড়ে প্রকৃতি বলছে, তোমরা একসাথে বেড়ে উঠো নিবিড় ভালবাসায় তুমি ও আমি, নদীর ধার , গাছের ছায়া , বাতাসের মৃদু স্পর্শ, চল , বসি একান্তে , যেখানে সময় দাঁড়ায় , আমাদের মত ক’রে তুমি হাসো, আলো বাজাও , এবং আমি শুনবো সব কথা, চুপেচুপে।

বাতাসের নিঃসঙ্গতা

  গভীর রাতে বাতাস বাজছে একান্তভাবে আমি ধরি তোমার হাত , হাত ধ’রে বেয়ে যাই নদীর কিনারায় জলরাশি হেসে ওঠে কতবার বলেছে তোমার নাম , আমি শুনি কতবার হারিয়েছে নিজের গহীনে, গভীর গহীনে পাতার নিচে দাঁড়িয়ে দেখি তোমার প্রতিচ্ছবি , চোখে আলো , মুখে ছায়া , হৃদয়ে হারিয়ে যাওয়ার গান প্রকৃতির শরীরে ভালোবাসা খোঁজে এক নিঃশব্দ স্পন্দন , আমি খুঁজি তা তোমার ভেজা চুলের রেখায় , আমার অশ্রুর বিন্দুতে তুমি যদি হয়েছো এক ফুল , আমি হতাম মধুর ফুলশয্যায় , সুদূর আকাশের নীল থেকে এনে তোমায় সজ্জিত করতাম আজ বলি,   আমি থাকব তোমার সঙ্গে , যে সম্পর্ক মিটিয়ে দেবে সব একাকিত্বের ব্যথা প্রকৃতি বলবে ভালোবাসো , তোমার ও আমার মাঝে , এবং রাতের কবলে আলোর স্পন্দন হ’য়ে উঠবে নতুন প্রভাত।

নিষিদ্ধ পাণ্ডুলিপির ইশতেহার

  এখানে কোনো সুসংবাদ নেই, এখন চরাচর জুড়ে কেবল দীর্ঘশ্বাসের গাঢ় কার্বন; তোমাদের চোখের ভাঁজে আজ কোনো গোলাপ নেই, সেখানে কেবল কয়েকটা পুরনো রক্তচাতক শুকিয়ে কাঠ আমি যখন বলি ভালোবাসি, তখন তোমরা শোনো বিদ্রোহ, আমি যখন বলি মানুষ, তোমরা তখন দেখ দীর্ঘ ছায়া চতুর্দিকে সেখানে কোনো গোত্র নেই, কোনো বিশেষ স্বর্গ নেই বলে তোমরা আমার ঠোঁটে সেঁটে দাও রাষ্ট্রদ্রোহের তপ্ত সিলমোহর তোমাদের এই শহর এখন এক প্রকাণ্ড অপরাধ নগরী যেখানে ধারালো করা হচ্ছে কেবল শব্দের বিন্যাস তোমরা সত্যকে পোশাক পরাতে চেয়েছো রেশমি কাপড়ে, কিন্তু আমি তাকে নিয়ে এসেছি নগ্ন, ফুটপাতে দেখো, সত্যের শরীর জুড়ে কতগুলো কালশিটে দাগ ঠিক তোমাদের মিথ্যা আশ্বাসের আঙুলের কঠিন ছাপ এই শহরের মানুষগুলো বড় বেশি একা, বড় বেশি স্পর্শকাতর, একটু যুক্তির আঁচ লাগলেই তাদের সিংহাসন কেঁপে ওঠে; অথচ আমার স্বপ্নে ছড়িয়ে আছে ধুলোয়, ঘামে, শ্রমিকের নখে যাদের কোনো আশ্রয় নেই, নেই কোনো বিশাল অট্টালিকা আমি সেই নিষিদ্ধ পাণ্ডুলিপি, যা পড়লে তোমাদের রক্তচাপ বেড়ে যায়, আমি সেই বিষাক্ত বৃক্ষ, যার ছায়ায় বসলে তোমাদের সংস্কার খসে পড়ে তোমরা আমাকে শৃঙ্খলিত করতে চেয়ে...

শকুনের করতলে মানচিত্র

  এখন রাজপথে কোনো মিছিল নেই, আছে কেবল বুটের কর্কশ শব্দ, এখন পতাকায় কোনো সবুজ নেই, আছে শুধু শুকনো জমাটবদ্ধ রক্ত, তোমরা যাকে বলো ‘উন্নয়ন’, আমি তাকে দেখি গণকবরের ওপর নির্মিত অট্টালিকা, তোমরা যাকে বলো ‘শাসন’, আমি তাকে চিনি স্বৈরাচারের আদিম নামাবলী তোমাদের প্রতিটি আইন এক একটি বিষাক্ত কাঁটাতারের বেড়া, যা বিদ্ধ ক’রে রেখেছে জ্যান্ত মানুষের বু’ক আর কণ্ঠস্বর তোমাদের আদালতগুলো এখন কেবল একপাক্ষিক নাটকের মঞ্চ, যেখানে বিচারকেরা কাঁপে শমন জারির আগে প্রভুর চোখের ইশারায় সবকিছু আজ অন্যদের হাতে চলে গেছে নষ্টদের হাতে পবিত্র সংবিধান, নষ্টদের হাতে রাষ্ট্রের চাবিকাঠি; যেখানে কৃষকের লাঙল থেকে খসে প’ড়ে অনাহারের জং, সেখানে তোমাদের মন্ত্রীদের উদর স্ফীত হয় দুর্নীতির চর্বিতে তোমরা ইতিহাসকে ধুয়েমুছে দিতে চাও তোমাদের নিজস্ব সাবানে, নতুন ক’রে খোদাই করো নাম, যারা কোনোদিন লড়েনি রোদে পোড়া মিছিলে তোমাদের স্বাধীনতা মানে কেবল গদি বদলের একঘেয়ে খেলা, আর আমার স্বাধীনতা মানে মধ্যরাতে নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার তোমাদের ধর্মের বর্ম এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঢাল, পুঁজিবাদের ছায়ায় বসে তোমরা জপ করো সাম্যের মন...