সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রাইটার ব্লক: সৃজনশীলতার নীরব বিপর্যয়-পর্ব ২

 

রাইটার ব্লকের ইতিহাস মূলত লেখালেখির ইতিহাসের সমান প্রাচীন, যদিও ‘Writer's Block’ শব্দটি আধুনিক যুগে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। মানুষ যখন প্রথম নিজের অভিজ্ঞতাকে ভাষায় রূপ দিতে শুরু করেছিল, তখন থেকেই সৃষ্টির আনন্দের পাশাপাশি সৃষ্টি-অক্ষমতার বেদনাও তার সঙ্গী হয়েছে। প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিকেরা বিশ্বাস করতেন, সৃজনশীলতা দেবতাদের আশীর্বাদস্বরূপ এক বিশেষ অনুপ্রেরণা, যা কখনও মানুষের উপর নেমে আসে, আবার কখনও তাকে একেবারে পরিত্যাগ ক’রে। এই ধারণা বহু শতাব্দী ধরে সাহিত্যজগতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। পরবর্তীকালে রেনেসাঁ যুগে মানুষ যখন শিল্পী ও লেখকের ব্যক্তিসত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করল, তখন বোঝা গেল যে সৃজনশীলতার উত্থান-পতন কোনো অলৌকিক বিষয় নয়। এটি মানুষের মন, অভিজ্ঞতা, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত বিষয় হ’য়ে দেখা দেয়। তবুও সেই সময়েও বহু কবি ও সাহিত্যিক নিজেদের সৃজনশীল নীরবতার কথা ডায়েরি, চিঠি কিংবা স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন। তারা হয়তো ‘রাইটার ব্লক’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। কিন্তু তাদের বর্ণনা আজকের মনোবিজ্ঞানের আলোকে এই অবস্থারই পরিচয় বহন ক’রে। ইতিহাসে এমন বহু সময় এসেছে যখন একজন লেখক বছরের পর বছর কোনো উল্লেখযোগ্য রচনা প্রকাশ করতে পারেননি। অথচ সেই দীর্ঘ নীরবতার পর তিনি সৃষ্টি করেছেন এমন একটি সাহিত্যকর্ম, যা পরবর্তী শতাব্দীগুলোর পাঠককে মুগ্ধ করেছে। এই ঘটনাগুলো আমাদের শেখায় যে, সৃজনশীলতার বিরতি সবসময় পতনের লক্ষণ নয়। অনেক সময় এটি গভীর প্রস্তুতির সময়ও হ’তে পারে। একজন শিল্পীর ভেতরে অসংখ্য অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি এবং পর্যবেক্ষণ দীর্ঘদিন ধ’রে নীরবে জমা হতে থাকে। তারপর একসময় তা বিস্ফোরণের মতো প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেই অপেক্ষার সময়টিই লেখকের কাছে সবচেয়ে কঠিন, কারণ বাইরের মানুষ শুধু তার নীরবতা দেখে, ভেতরের প্রস্তুতিকে নয়। এই কারণেই রাইটার ব্লককে অনেক গবেষক ‘অদৃশ্য শ্রমের সময়’ বলেও উল্লেখ করেছেন। বাইরে কিছুই ঘটছে না বলে মনে হলেও ভেতরে মস্তিষ্ক নতুন সংযোগ তৈরি করছে। পুরোনো অভিজ্ঞতাকে নতুন অর্থ দিচ্ছে, ভাষাকে নতুন রূপে সাজানোর চেষ্টা করছে। তবে এই প্রক্রিয়া সবসময় সুখকর নয়; বরং অনেক সময় এটি ভয়, হতাশা এবং আত্মসন্দেহে পরিপূর্ণ থাকে। একজন লেখক যখন টেবিলের সামনে বসে শূন্য পাতার দিকে তাকিয়ে থাকেন, তখন সেই শূন্যতা কেবল কাগজে নয়, বরং মনেও প্রতিফলিত হয়। তিনি অনুভব করেন, যেন নিজের ভেতরের ভাষা কোথাও হারিয়ে গেছে। অথচ বাস্তবে ভাষা হারিয়ে যায় না; হারিয়ে যায় তার প্রতি আস্থা। আত্মবিশ্বাস যখন কমে যায়, তখন সবচেয়ে সহজ বাক্যটিও কঠিন মনে হয়। এই আত্মবিশ্বাসের সংকটকে মনোবিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন। মানুষের মস্তিষ্কে সৃজনশীলতা এবং আত্মসমালোচনার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য থাকে। যখন সৃজনশীল অংশ সক্রিয় থাকে, তখন নতুন ধারণা জন্ম নেয়; কিন্তু যখন সমালোচনামূলক অংশ অতিরিক্ত সক্রিয় হ’য়ে ওঠে, তখন প্রতিটি ধারণাকেই তা প্রত্যাখ্যান করতে থাকে। ফলে মানুষ লেখার আগেই নিজের চিন্তাকে বাতিল ক’রে দেয়। এই প্রক্রিয়া এত দ্রুত ঘটে যে অনেক সময় লেখক নিজেও বুঝতে পারেন না, তিনি কেন লিখতে পারছেন না। তিনি কেবল অনুভব করেন যে কোনো বাক্যই যথেষ্ট ভালো নয়। বাস্তবে সমস্যাটি বাক্যে নয়, বরং সেই বাক্যের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতে। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান দেখিয়েছে যে, সৃষ্টিশীল কাজের সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল একসঙ্গে কাজ করে। কল্পনা, স্মৃতি, ভাষা, আবেগ, পরিকল্পনা এবং বিচার, সবগুলোই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা অনিদ্রা এই সমন্বয়কে দুর্বল ক’রে দেয়। তখন চিন্তা আসে, কিন্তু ভাষা আসে না; ভাষা আসে, কিন্তু গঠন আসে না; গঠন আসে, কিন্তু আবেগ অনুপস্থিত থাকে। ফলে দেখা যায় লেখা যান্ত্রিক হ’য়ে যায় অথবা একেবারেই শুরু হয় না। এই অবস্থায় অনেক লেখক ভুল ক’রে ভাবেন যে তাদের প্রতিভা শেষ হ’য়ে গেছে। অথচ গবেষণা বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক। বরং যারা দীর্ঘদিন ধ’রে সৃজনশীল কাজ করেন, তাদের জীবনে এমন পর্যায় আসার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ তাদের উপর প্রত্যাশার চাপও বেশি থাকে। প্রথম বই সফল হলে দ্বিতীয় বই লেখার সময় ভয় কাজ ক’রে। প্রথম কবিতাগ্রন্থ প্রশংসিত হলে পরবর্তী গ্রন্থে সেই মান ধরে রাখার দায় তৈরি হয়। একটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে পরবর্তী গবেষণাকে আরও উন্নত করার চাপ আসে। অর্থাৎ সাফল্য যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি নতুন ধরনের রাইটার ব্লকেরও জন্ম দিতে পারে। একে অনেক গবেষক ‘সাফল্যজনিত সৃজনশীল সংকোচ’ বলে ব্যাখ্যা করেন। এখানে ব্যর্থতার ভয়ের পাশাপাশি সাফল্য ধ’রে রাখার ভয়ও কাজ ক’রে। আবার এমন লেখকও আছেন, যারা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে এত গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন যে বিষয়টির আবেগ তাদের ভাষাকে অবরুদ্ধ ক’রে দেয়। যেমন যুদ্ধ, গণহত্যা, প্রিয়জনের মৃত্যু, শৈশবের নির্যাতন, নির্বাসন, দেশত্যাগ কিংবা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নিয়ে লিখতে গিয়ে অনেকেই দীর্ঘ সময় থেমে যান। কারণ লেখার অর্থ তখন কেবল ঘটনা বর্ণনা নয়, সেই ঘটনার ভেতরে আবার প্রবেশ করা এবং বার বার চোখ রাখা। অবচেতন মন অনেক সময় এই পুনঃঅভিজ্ঞতাকে এড়াতে চায়। ফলে লেখক বাহ্যিকভাবে লেখার টেবিলে বসলেও ভেতরের মন তাকে থামিয়ে রাখে। এই ধরনের রাইটার ব্লককে আবেগগত প্রতিরক্ষা হিসেবেও দেখা যায়। অর্থাৎ, লেখা থেকে বিরত থাকা অনেক সময় মনের আত্মরক্ষার একটি কৌশল। তবে দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে তা ব্যক্তির আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে। লেখক তখন অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা শুরু করেন। তিনি ভাবেন, অন্য সবাই লিখছে, কেবল তিনিই পারছেন না। প্রতিদিন অসংখ্য নতুন বই, নতুন নিবন্ধ, নতুন কবিতা, নতুন পুরস্কার, নতুন ঘোষণা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মানুষ তখন অন্যের সমাপ্ত কাজের সঙ্গে নিজের অসমাপ্ত খসড়ার তুলনা করতে থাকে। এই তুলনা অত্যন্ত অন্যায়, কারণ একটি প্রকাশিত বইয়ের পেছনে বছরের পর বছর পরিশ্রম থাকে, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে আমরা কেবল ফলাফল দেখি, প্রক্রিয়া দেখি না। ফলে নিজের ধীরগতিকে ব্যর্থতা মনে হয়। এই মনোভাব রাইটার ব্লককে আরও গভীর ক’রে তোলে। অথচ সৃজনশীলতার প্রকৃতি প্রতিযোগিতামূলক নয়; এটি ব্যক্তিগত। একজন লেখকের সময়, অভিজ্ঞতা, ভাষা এবং পথ আরেকজনের মতো হতে পারে না। যে লেখক নিজের গতিকে সম্মান করতে শেখেন, তিনি তুলনামূলকভাবে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেন। ইতিহাসের বহু বিখ্যাত সাহিত্যিক তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমে এই শিক্ষা দিয়েছেন। কেউ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দ লিখতেন, কেউ নির্দিষ্ট সময় টেবিলে বসতেন, কেউ আবার লিখতে না পারলেও পড়তেন বা নোট নিতেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সৃজনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কটি অটুট রাখা। কারণ লেখা না হলেও লেখকের জীবন যেন লেখালেখি থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, অনুপ্রেরণা এলে তবেই লিখবেন। কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত চর্চাই অনুপ্রেরণাকে আমন্ত্রণ জানায়। একজন সংগীতশিল্পী যেমন প্রতিদিন রেওয়াজ করেন, একজন চিত্রশিল্পী যেমন প্রতিদিন আঁকার অভ্যাস বজায় রাখেন, তেমনি লেখকেরও প্রতিদিন ভাষার সঙ্গে সময় কাটানো দরকার। এমনকি লেখা না হলেও শব্দ নিয়ে ভাবা, একটি বাক্য নোট করা, কোনো দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করা বা একটি সংলাপ লিখে রাখা, এসবই সৃজনশীল ধারাবাহিকতার স্তর। রাইটার ব্লকের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এটি মানুষকে লেখালেখি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি ভাবেন, আজ লিখতে পারছি না, কাল লিখব; তারপর সেই কাল আর আসে না। দিনের পর দিন দূরত্ব বাড়তে থাকে। ফলে ব্লক আরও শক্তিশালী হয়। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, ব্লকের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, বরং সংলাপ করা উচিত। অর্থাৎ নিজেকে জোর করে নিখুঁত লেখা লিখতে বাধ্য না ক’রে, কেবল উপস্থিত থাকার অভ্যাস গ’ড়ে তোলা উচিত। একটি খারাপ বাক্য লেখা একটি না-লেখার চেয়েও মূল্যবান। কারণ খারাপ বাক্য সম্পাদনা করা যায়, কিন্তু শূন্য পৃষ্ঠা সম্পাদনা করা যায় না। এই সরল সত্যটি যত দ্রুত একজন লেখক উপলব্ধি করেন, তত দ্রুত তিনি রাইটার ব্লকের মানসিক শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। সৃজনশীলতা কখনও অবিরাম প্রবাহ নয়; এটি জোয়ার-ভাটার মতো। কখনও চিন্তা উথলে ওঠে, কখনও নীরবতা নেমে আসে। কিন্তু নীরবতাও সৃষ্টির অংশ। সেই নীরবতাকে যদি আমরা ব্যর্থতা না ভেবে প্রস্তুতি হিসেবে দেখতে শিখি, তবে রাইটার ব্লক আর কেবল অন্ধকার মনে হবে না; বরং নতুন ভাষা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন আত্ম-আবিষ্কারের একটি অন্তর্বর্তী সময় বলে মনে হবে।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...