তোমার শরীরের কাছে এলেই এই শহরটা হঠাৎ কুয়াশা হয়ে যায় , বিলীন হয় ট্রাফিক সিগন্যাল , ধোঁয়াটে রেস্তোরাঁ আর নাগরিক কোলাহল আমি দেখি , তোমার ওই গ্রীবা আসলে কোনো হাড়-মাংসের গঠন নয় ওটা এক তপ্ত শ্বেতপাথরের পাহাড় , যার ঢালে হাত রাখলে আমার আঙুলগুলো একেকটা তৃষ্ণার্ত যাযাবর হয়ে পথ হারায় তোমার ত্বকের অমসৃণতায় আমি খুঁজি এক প্রাচীন গুহাচিত্র , যেখানে আমাদের পূর্বপুরুষেরা প্রথম আগুনের জন্ম দিয়েছিল তোমার নিশ্বাস যখন আমার কন্ঠনালীতে আছড়ে পড়ে , মনে হয় ওটা কোনো বাতাস নয় , ওটা এক কালবৈশাখীর ভ্রূকুটি ; যা আমার পাঁজরের হাড়গুলোকে মড়মড় শব্দে ভাঙতে চায় তোমার নাভিমূলের ওই নিভৃত হ্রদে যখন আমার ছায়া পড়ে , আমি দেখি সেখানে হাজার বছরের জমাট বাঁধা এক অন্ধকার যা কোনো সূর্য চেনে না , চেনে কেবল রক্তের নিগূঢ় টান ওটা তো শরীর নয় , ওটা মহাকালের এক একাকী ধাবমান ধূমকেতু , যার লেজের ঝাপটায় আমার তিল তিল করে গড়া সভ্যতা চূর্ণ হয় তোমার আঙুলের ডগায় যখন আমার নাম লেখা হয় অলক্ষ্যে , আমার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে আসে এক নিষিদ্ধ জলপ্রপাত সেখানে জল নেই , আছে গলিত লাভার মতো তীব্র এক দহন ; তোমার নখের আঁচড়ে যখন পিঠের চামড়া আলগা হয়ে আসে...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।