বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক খুব অদ্ভুত। কেউ বৃষ্টিকে ভালোবাসে কারণ সে পৃথিবীকে ধুয়ে দেয়, কেউ বৃষ্টিকে ঘৃণা করে কারণ সে পুরোনো স্মৃতিগুলোকে ভিজিয়ে আবার জীবন্ত করে তোলে। নীরা বৃষ্টি ভালোবাসত না, অথচ তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ দুজনই এসেছিল বৃষ্টির দিনে। একজন এসেছিল তাকে ভালোবাসতে শেখাতে, আর অন্যজন এসেছিল তাকে বুঝিয়ে দিতে যে ভালোবাসার সবচেয়ে গভীর রূপটি কখনো কখনো উচ্চারণ করা যায় না। সেই দুজনের নাম ছিল অর্ক ও রুদ্র। আর নীরা জানত না, মানুষের হৃদয় কখন কোন নামে নিজের দরজা খুলে দেয়। ঢাকার আকাশে সেদিন দুপুর থেকেই কালো মেঘ জমেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাস শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টি শুরু হলো। সবাই ছুটে বেরিয়ে গেল, কেউ ছাতা খুলল, কেউ ব্যাগ মাথায় দিয়ে দৌড়াল, কেউ করিডোরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে বৃষ্টির ছবি তুলতে লাগল। নীরা দাঁড়িয়ে ছিল পুরোনো কলাভবনের বারান্দায়। তার হাতে একটি বই, বইটির ভেতরে শুকনো কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি। সে জানত না কেন সেদিন তার মনে হচ্ছিল, জীবনে খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। মানুষের মন কখনো কখনো ভবিষ্যতের গন্ধ পায়, যদিও সে ভবিষ্যৎ দেখতে পারে না। ঠিক তখনই তার পাশে এসে দাঁড়াল একটি ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।