১. আমি যখন নিঃশেষ রাত্রির অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকি শূন্যতার নীরবতায় হৃদয়ের ব্যথা একটানা গভীর হ ’ য়ে বাজতে থাকে , এমন প্রতিধ্বনি যেন বাতাসের অদেখা দোলায় মনোমুক্ত শব্দেরা হৃদয়ের অন্তঃস্থলকে স্পর্শ ক ’ রে রাতের অব্যক্ত শূন্যতায় প্রতিটি নিশ্বাস যেন দীর্ঘ নীরবতার মতো অজস্র ক্ষুদ্র আলো নিভে যায় , কোনো অস্পষ্ট , অচেনা অনুভূতি অন্তরের খেয়ালে গভীর কষ্টের দাগ এঁকে যায় ২. চোখের পলকে ঢুকে প ’ ড়ে শত শূন্যতার অভিশাপ যেমন প্রতিটি স্মৃতি নিজের ভারে ডু ’ বে আছে , হৃদয়ের প্রতিটি শিরায় বেজে ওঠা অনুভূতির সুর ধীরে ধীরে শব্দের সমুদ্রে মিলিয়ে যায় তার ছায়া মনে হয় , আমি যেন নতুন কোন আগন্তুক একটি অনির্দিষ্ট গান অন্তরালের ম্লান দীপ্তিকে মুঠোয় বন্দী ক ’ রে ছেড়ে দিয়েছে আর সেই সুরে প্রতিটি অনুভব জীবনের সন্ধি খুঁজে পেতে চায় শূন্যতার রূপে , ব্যথার রূপে , মানসিক ক্ষুদ্র আলোতে প্রান্তর খুঁজে রক্তের গভীরে ৩. তোমার ওই অনাবিল ছায়া যেন কোনো কবিতার সম্ভ্রম কবে , কোথা থেকে , ঝ ’ রে এসেছে বেদনার আলো ? আমি জানিনা ! কিন্তু প্রতিটি শব্দে তোমার স্পর্শের মতো স্নিগ্ধ , অচেনা কণ্ঠ আমার ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।