এখন রাজপথে কোনো মিছিল নেই, আছে কেবল বুটের কর্কশ শব্দ, এখন পতাকায় কোনো সবুজ নেই, আছে শুধু শুকনো জমাটবদ্ধ রক্ত, তোমরা যাকে বলো ‘উন্নয়ন’, আমি তাকে দেখি গণকবরের ওপর নির্মিত অট্টালিকা, তোমরা যাকে বলো ‘শাসন’, আমি তাকে চিনি স্বৈরাচারের আদিম নামাবলী তোমাদের প্রতিটি আইন এক একটি বিষাক্ত কাঁটাতারের বেড়া, যা বিদ্ধ ক’রে রেখেছে জ্যান্ত মানুষের বু’ক আর কণ্ঠস্বর তোমাদের আদালতগুলো এখন কেবল একপাক্ষিক নাটকের মঞ্চ, যেখানে বিচারকেরা কাঁপে শমন জারির আগে প্রভুর চোখের ইশারায় সবকিছু আজ অন্যদের হাতে চলে গেছে নষ্টদের হাতে পবিত্র সংবিধান, নষ্টদের হাতে রাষ্ট্রের চাবিকাঠি; যেখানে কৃষকের লাঙল থেকে খসে প’ড়ে অনাহারের জং, সেখানে তোমাদের মন্ত্রীদের উদর স্ফীত হয় দুর্নীতির চর্বিতে তোমরা ইতিহাসকে ধুয়েমুছে দিতে চাও তোমাদের নিজস্ব সাবানে, নতুন ক’রে খোদাই করো নাম, যারা কোনোদিন লড়েনি রোদে পোড়া মিছিলে তোমাদের স্বাধীনতা মানে কেবল গদি বদলের একঘেয়ে খেলা, আর আমার স্বাধীনতা মানে মধ্যরাতে নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার তোমাদের ধর্মের বর্ম এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঢাল, পুঁজিবাদের ছায়ায় বসে তোমরা জপ করো সাম্যের মন...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।