এখানে কোনো সুসংবাদ নেই, এখন চরাচর জুড়ে কেবল দীর্ঘশ্বাসের গাঢ় কার্বন; তোমাদের চোখের ভাঁজে আজ কোনো গোলাপ নেই, সেখানে কেবল কয়েকটা পুরনো রক্তচাতক শুকিয়ে কাঠ আমি যখন বলি ভালোবাসি, তখন তোমরা শোনো বিদ্রোহ, আমি যখন বলি মানুষ, তোমরা তখন দেখ দীর্ঘ ছায়া চতুর্দিকে সেখানে কোনো গোত্র নেই, কোনো বিশেষ স্বর্গ নেই বলে তোমরা আমার ঠোঁটে সেঁটে দাও রাষ্ট্রদ্রোহের তপ্ত সিলমোহর তোমাদের এই শহর এখন এক প্রকাণ্ড অপরাধ নগরী যেখানে ধারালো করা হচ্ছে কেবল শব্দের বিন্যাস তোমরা সত্যকে পোশাক পরাতে চেয়েছো রেশমি কাপড়ে, কিন্তু আমি তাকে নিয়ে এসেছি নগ্ন, ফুটপাতে দেখো, সত্যের শরীর জুড়ে কতগুলো কালশিটে দাগ ঠিক তোমাদের মিথ্যা আশ্বাসের আঙুলের কঠিন ছাপ এই শহরের মানুষগুলো বড় বেশি একা, বড় বেশি স্পর্শকাতর, একটু যুক্তির আঁচ লাগলেই তাদের সিংহাসন কেঁপে ওঠে; অথচ আমার স্বপ্নে ছড়িয়ে আছে ধুলোয়, ঘামে, শ্রমিকের নখে যাদের কোনো আশ্রয় নেই, নেই কোনো বিশাল অট্টালিকা আমি সেই নিষিদ্ধ পাণ্ডুলিপি, যা পড়লে তোমাদের রক্তচাপ বেড়ে যায়, আমি সেই বিষাক্ত বৃক্ষ, যার ছায়ায় বসলে তোমাদের সংস্কার খসে পড়ে তোমরা আমাকে শৃঙ্খলিত করতে চেয়ে...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।