তোমার সৌন্দর্যে আমি আঘাত করতে চেয়েছিলাম ; তুমি যাকে প্রেম বলো , আমি তাকে বলি এক সুসজ্জিত শৃঙ্খল ; তুমি যাকে লাজুক হাসি বলো , আমি তাকে বলি মধ্যবিত্তের ভণ্ডামি আমি চেয়েছিলাম তোমার রক্তে এমন এক বিষ ঢুকিয়ে দিতে যা তোমাকে কোনো দেবী নয় , বরং এক চিরচেনা বিদ্রোহী ক ’ রে তুলবে ; আসলে মুক্তি মানে কোনো প্রার্থনা নয় , মুক্তি মানে সমস্ত বিশ্বাসের মূলে কুঠার চালানো তোমার শরীর কোনো উপাসনাগৃহ নয় , এ - এক আদিম রণক্ষেত্র আমি যখন তোমার নাভি ও উরুর সন্ধিস্থলে আমার দ্রোহ বুনি , তখন সেখানে কোনো ঐশ্বরিক আলো জ্বলে না ; বরং জ্বলে ওঠে হাজার বছরের পুঞ্জীভূত ক্রোধ আর জমানো ঘৃনা আমি চেয়েছিলাম তোমার ওই নিটোল স্তনযুগলকে এই পচা সমাজের দিকে তাক করা দুটো কামানে রূপান্তর করতে তুমি আঁতকে উঠেছিলে , কারণ তুমি তা হতে চাওনি , চেয়েছিলে মোমবাতির মতো গলতে ধিক্কার দিই তোমার ওই নিরাপদ শয্যাকে , যেখানে তুমি প্রথার পা চাটছো নীরবে আমি চেয়েছিলাম তোমাকে নিয়ে এক অন্ধকার মিছিলে নামতে , চূড়ায় ভ্রমন করতে যেখানে আমরা নগ্ন হ ’ য়ে নাচবো আর মুছে দেবো সমস্ত প্রাচুর্য ছিঁড়ে ফেলবো পুরনো যত ইতিহাস , বদলে দ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।