শহরটা দিনশেষে এমন এক রঙে ডুবে যেত , যেন কেউ আকাশের ওপর পুরোনো তামার পাত বসিয়ে দিয়েছে। জানালার কাচে শেষ বিকেলের আলো লেগে থাকত কিছুক্ষণ , তারপর ধীরে - ধীরে নেমে আসত ধোঁয়ার মতো নীল অন্ধকার। সেই শহরে , ঠিক এমন এক ঋতুর সন্ধ্যায় , অয়ন প্রথমবার বুঝেছিল , কিছু প্রেম মানুষকে সম্পূর্ণ ক ’ রে না , বরং ভেঙে ভেঙে নতুন ক ’ রে গ ’ ড়ে তোলে। অয়ন ছিল স্থির চোখের একজন মানুষ। সে কম কথার মানুষ। ভাবনায় গভীর , চেতনায় আধুনিক , ভাবনায় অনেকটা অগ্রগামী । বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত ; স্লোগান বানাত , ব্র্যান্ডকে মানুষের স্বপ্নের মতো দেখাতে শিখত , অথচ নিজের জীবনের জন্য কোনো স্লোগান তার কাছে ছিল না। অফিসের কাচঘেরা তলাটিতে সবাই যখন ভেসে চলত দ্রুততা আর উচ্চাভিলাষের মধ্যে , তখন অয়ন চুপচাপ নোটবুকের পেছনের পাতায় লিখত , ‘ মানুষ যা চায় , তা সবসময় মানুষ যা প্রয়োজন , তা নয়। ’ এই একটি বাক্যই যেন তার ভিতরের বেঁচে থাকাকে ব্যাখ্যা করত।তার জীবনে প্রথম ঢুকেছিল মেঘলা। নামের মতোই সে ছিল অনিশ্চিত , ছায়াময় , অথচ আশ্চর্য উজ্জ্বল। মেঘলার হাসি ছিল এমন , যেন ব্যস্ত একটি গলি হঠাৎ একফোঁটা বৃষ্টিতে ধু ’ য়ে গেলে যে স্বস্তি ন...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।