সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবিতাঃ একটি গভীর নীরবতা চাই


স্নিগ্ধ আর শান্ত নীরবতা যেন আমাকে হিম ক’রে তুলছে,
আমি কি হারিয়ে যাবো আমার মধ্যে থেকে !
ভাবনার সাথে বেড়ে যাচ্ছে দীর্ঘ এক ব্যবধান, বিচ্ছুরিত আলোর
মধ্যেও আমি দেখতে পাই স্তব্ধ এক গভীর নীরবতা,
সব কিছু যেন নিস্তব্ধ হ’য়ে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমার চতুর্দিকে;
বিস্ময়ে-বিমুগ্ধ তাকিয়ে থাকি গাঢ় পল্লবের দিকে,
বিহঙ্গের সুর যেখান থেকে বেজে উ’ঠে কোমল হ’য়ে,
অরণ্যের মাঝে হারিয়ে ফেলি নিজেকে; আবার খুঁজে
ফিরি সকাল-সন্ধ্যায় বেদনার মধ্যে ক্ষণে-ক্ষণে;  
আমি কী ভুলে গেছি আমার পিতা বা পিতামহের নাম,
যাঁদের প্রবাহিত ধারা স্রোতের মতো বেঁয়ে চলে আমার রক্তে;
আমার সন্তান কী মনে রাখবে আমার নাম !  
কয়েক দশক গত হওয়ার পর তার অন্তরের মাঝে ?
গভীর স্নেহ আর শিশিরের হিমেল হাওয়ায় যাদের ভালোবেসেছি অনেক বেশি;
আমার কী মনে থাকবে রবীন্দ্রনাথের কোনো কবিতার পঙত্তি;
যা আমি গলায় বেঁধেছি সুরের মতো বা
জীবনানন্দের ‘গভীর অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে জেগে উঠলাম আবার’;
পড়েছি অনেকবার, জানি, কিছুই মনে থাকবে না আমার;  
ভুলে যাবো! স্তব্ধ চিত্তে যা নিয়েছি নিজের ক’রে আপন মনে
হাসনাহেনা-কামিনী আর বকুলের সুঘ্রাণ নীরব ব্যথায় গেঁথে থাকে;
কোনো এক গভীর নীরবতা আমাকে পৌঁছে দিবে চিরন্তন সৌন্দর্যের মাঝে;
যেখানে নিজের ছায়াও হারিয়ে যাবে রাত্রির গাঢ় অন্ধকারে,  
পূর্ণিমার ভরা জ্যোৎস্না আর বৃষ্টির শব্দে কেঁপে উঠবে না আমার দু’চোখ;   
সকল সৌন্দর্য ম্লান হ’য়ে নিভে যাবে মুহূর্তে, স্পর্শের স্বাদ মুছে যাবে বাতাসে-
আমার চতুর্দিকে ছড়িয়ে প’ড়ে এক গভীর নীরবতা রাতভর এক দুঃস্বপ্নের মতো  
আদিম সঙ্গীত রচিত হয় কণ্ঠে-কণ্ঠে বিমূর্ত নিঃশব্দে;
সবুজ ঘাস গাঢ় হ’তে থাকে মৃত্তিকায় নরম কুয়াশা আর শিশিরের ছোঁয়ায়।   


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

আমাদের ব্যর্থতাগুলো

  বাংলাদেশের গল্প কেবল সাফল্যের গল্প নয়; এ গল্পের ভেতরে অসংখ্য অপূর্ণতার দীর্ঘ ছায়াও মিশে আছে। একটি দেশ যখন যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে নিজের পরিচয় নির্মাণ করে, তখন তার প্রতিটি অগ্রগতি যেমন গর্বের, তেমনি প্রতিটি ব্যর্থতাও আত্মসমালোচনার দাবি রাখে। আমরা স্বাধীনতার পর বহু পথ পেরিয়েছি   অর্থনীতি বেড়েছে, নগরায়ণ হয়েছে, শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, অবকাঠামো বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু উন্নয়নের দৃশ্যমান ভবনের আড়ালে এমন কিছু ভাঙাচোরা জায়গা রয়ে গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে হয়   আমরা কি সত্যিই এগিয়েছি, নাকি কেবল এগিয়ে যাওয়ার চেহারাটি নির্মাণ করেছি? আমাদের ব্যর্থতাগুলো তাই কেবল কোনো সরকারের, কোনো প্রতিষ্ঠানের কিংবা কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; এগুলো আমাদের সামষ্টিক চরিত্র, রাষ্ট্রচিন্তা, সামাজিক অভ্যাস এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের আয়না। সর্বোপরি এগুলো আমাদের নিজস্ব ব্যর্থতা। আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়তো এই যে, আমরা অনেক সময় সমস্যাকে সমাধান করার চেয়ে সমস্যার সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যাই। রাস্তায় যানজট, নদীতে দূষণ, ফুটপাতে দখল, ঘুষ, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, বিচার পেতে...