আমি তোমাকে ফুল দিতে আসিনি , এসেছি তোমার মসৃণ চামড়া য় নখ দিয়ে চিরে দেখতে ভেতরে কতোটা পচন আর কতোটা নষ্ট জমে আছে ; তোমার ওই সুসজ্জিত ওষ্ঠাধর আর কপট পবিত্রতার নিচে আমি খুঁজেছি এক তৃষ্ণার্ত নেকড়ের হাহাকার , যে আমার শরীরের লোনা ঘামে নিজের মুক্তি খোঁজে। প্রেম তো কোনো গল্প নয় , প্রেম এক আদিম সৌন্দর্য যেখানে আমি তোমাকে প্রতিদিন তৈরি করতে চেয়েছি তোমার সমস্ত লোকলজ্জা আর মধ্যবিত্ত ভীরুতার শেকল ছিঁড়ে। আমি তোমার বেড়ে ওঠা অন্ধকারে একগুচ্ছ বিষাক্ত নক্ষত্র ছুঁড়ে দিয়েছি , যাতে তুমি ভুলে যাও কীভাবে কেবল একটি ভালো মেয়ে হতে হয়। আমি চেয়েছি তুমি হারিয়ে যাও, এক অবাধ্য ঝোড়ো গভীর হাওয়া য় যেখানে নতুন ক’রে যেন কোন কিছু সৃষ্টি না হয়, আমাদের প্রেমে কোনো রঙ ছিল না, ওটা ছিল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আমি তোমার সৌন্দর্যের নির্জনতায় কোনো স্বর্গ খুঁজিনি , খুঁজেছি এক নিঃসঙ্গ মানুষের শূন্যতা , যেখানে কোনো নিয়ম নেই , কোনো বিচারক নেই , আছে কেবল প্রতিদিনের হারানো রুটিন তুমি যখন যন্ত্রণায় আর সুখে আমার নাম ধ ’ রে চিৎকার করো , তখন জানবে ঐ চিৎকারই হলো আমার তৈরি শ্রেষ্ঠ কবিতা , বাকি সব তো ভণ্ডামো, শ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।