শহরটা ছিল আকাশের দিকে ওঠা অসংখ্য কাচের শিরার মতো। যেন আলো ভেদ করে সব আলো তার গহ্বরে প্রবেশ করবে। দূর থেকে দেখলে মনে হতো, মাটি ফুঁড়ে উঠে এসেছে একদল স্বচ্ছ বৃক্ষ, যাদের পাতার বদলে আলো, শাখার বদলে স্যাটেলাইট-সংযোগ, আর শিকড়ের বদলে ভূগর্ভস্থ জেনারেটরের গম্ভীর স্পন্দন। শহরটির নাম ছিল নির্মলপুর। নামটি শুনলে শান্তি মনে হয়, কিন্তু নির্মলপুর শান্ত ছিল না; বরং সেখানে নীরবতাই ছিল সবচেয়ে বিপজ্জনক শব্দ।কারণ নির্মলপুরের মানুষ কথা বলত না। না, তারা বোবা ছিল না। তারা হাসত, কান্না করত, তর্ক করত, এমনকি প্রেমও করত, কিন্তু সবই তারা করত সংকেতভাষায়। শহরটির কেন্দ্রীয় আইন ছিল, ‘উচ্চারণিত শব্দ তথ্যের অপচয় ঘটায়।’ বহু বছর আগে সম্ভবত ২০৮৯ সালে, একটি বৈজ্ঞানিক দুর্ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন থেকে মানুষের মুখের ভাষা নিষিদ্ধ হয়। কণ্ঠস্বর কেবল গণবিজ্ঞপ্তি, জরুরি সংকেত, বা অনুমোদিত কৃত্রিম বাচনযন্ত্রে ব্যবহৃত হতে পারত। বাকি সব যোগাযোগ ছিল হাতের ভাষা, চোখের সংকেত, আর মস্তিষ্কে বসানো লিংক-চিপ-এর মাধ্যমে প্রেরিত নীরব তথ্যপ্রবাহ। যা চোখে-চোখে প্রেরিত হতে থাকে। কিন্তু এই শহরের নীচে, মাটির বহু গভ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।