মহাবিশ্বের শেষ প্রান্তে যখন আলো এবং অন্ধকার একে অপরের সাথে নিঃশব্দ যুদ্ধ বন্ধ করে দিয়েছিল, ঠিক তখন ‘অরিয়ন-৯’ নামক মহাকাশপোতটিতে লাল বাতিটা দ্বিতীয়বারের মতো জ্বলে উঠল। নোভা তার বায়ো-স্যুটের হেলমেটটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। কাচের প্যানেলে তার নিজের ক্লান্ত চেহারা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বয়স খুব বেশি নয়, কিন্তু চোখের কোণে যে রেখাগুলো জেগে উঠেছে, তা সময়ের নয় তা একাকীত্বের। অরিয়ন-৯ পৃথিবীর শেষ অভিযাত্রী জাহাজ। পৃথিবীর কথা এখন আর কেউ মনে রাখে না। সৌরজগতের নীল গ্রহটি যখন তার সূর্যকে হারিয়ে এক খণ্ড জমে যাওয়া পাথরে পরিণত হয়েছিল, তখন মানবজাতির শেষ কয়েকটি অংশ ছিটকে পড়েছিল ছায়াপথের বিভিন্ন প্রান্তে। নোভা ছিল সেই অভিযাত্রীদের একজন, যার কাজ ছিল একটি নতুন আবাসস্থল খোঁজা অথবা অন্তত অন্য কোনো জীবন্ত সভ্যতার সন্ধান পাওয়া। ‘কম্পিউটার, ডায়েরি এন্ট্রি নাম্বার ৪,৮০২,’ নোভা ফিসফিস করে বলল। কন্ট্রোল প্যানেলে একটি যান্ত্রিক নীল আলো কেঁপে উঠল। আরিয়া (A.I. R-18), জাহাজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মৃদু কণ্ঠে উত্তর দিল, ‘শুনছি, নোভা। আপনার রিপিটেশন রেট আজ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫% বেশি। আপনি কি মানসিক ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।